Breaking News
Home / Health / নাক-কান-গলায় কিছু ঢুকে গেলে কী করবেন জেনে রাখুন

নাক-কান-গলায় কিছু ঢুকে গেলে কী করবেন জেনে রাখুন

অনেকসময় না বুঝেই শিশুরা কিছু জিনিস নাক-কান কিংবা গলায় দিয়ে ফেলে। অনেক সময় তা বিপজ্জনকও ‘হতে পারে। তাই জেনে নিন নাকে কানে কিংবা গলায় কোনো বস্তু আট’কে গেলে যা করবেন।নাকে কোনো কিছু ঢুকলে, সমস্যার শেষ থাকে না।

যদি দেখেন যে বস্তুটি নাকে ঢুকে গেছে তা ধা’রালো কোনো বস্তু নয়, গোল বস্তু নয় বা বস্তুটি বের করার মতো অবস্থায় রয়েছে তা আঙুল বা চিমটে দিয়ে বের করে নিতেই পারেন। তবে সাবধান থাকতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চারা অনেকসময় কোনো বস্তুকে নাকের ভেতর ঠেলতে ঠেলতে অনেক গভীরে নালীর মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে। এমন অবস্থায় খালি চোখে নাকের ভেতরে সেই বস্তুটিকে আর দেখা সম্ভব হয় না।

এখানে মনে রাখার বি’ষয় হল, নাকে কোনো বস্তু ঢুকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নাকে সর্দি হয়। জল পড়ে টপটপ করে। তখন নাকে বস্তু ঢুকে রয়েছে বলে ধরে নিয়ে চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার ভালো। নাকে কী আছে তা ডাক্তারেরা এক্সরে করে নিশ্চিত হন। ধাতব বাদে অন্য ধরনের কোনো বস্তু হলে নাকের মধ্যে ক্যামেরাযুক্ত নল ঢুকিয়ে দেখেন ডাক্তারেরা।

বস্তু এবং তার অবস্থান সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে সেই বস্তুটিকে বাইরে বের করে দেন। তাই নাকে কিছু আট’কে গেলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিত্সকের কাছে যান।

খেলতে খেলতে শিশুরা কোনো বস্তু কানে ঢুকিয়ে দিতে পারে বাচ্চারা। শুধু বাচ্চা নয়, বড়দের ক্ষেত্রেও একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সময় থাকতে থাকতে সঠিক সি’দ্ধান্ত নেয়া অত্যন্ত জরুরি। কানের ফুটোর মধ্যে পোকামাকড়, মশা-মাছি প্রভৃতি ঢুকে আট’কে পড়ে, সে ক্ষেত্রে বাড়িতে নিজেরা খোঁচাখুঁচি করলে সমস্যা আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শিশু ছাড়াও বড়দের কানের ভেতরে পোকামাকড়, মশা-মাছি অনেক সময় ঢুকে যায়। এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে শিশুকে অথবা আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিকে চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যেতে না পারলে বাড়িতে প্রথমেই বুঝতে চেষ্টা করুন, কানের মধ্যে যে জিনিসটি ঢুকেছে, সেটি জীবন্ত কিছু না কি জড় পদার্থ।

জড় পদার্থ ঢুকে থাকলে চিকিত্সকের কাছে যেতে সামান্য দেরি হলেও অসুবিধা নেই। কিন্তু কানে মশা-মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়ে বা অন্য কোনো জীব ঢুকে পড়লে সেটিকে মেরে ফেলতে চেষ্টা করতে হবে!

না হলে কানের ভেতরে আট’কা পড়া প্রাণীটির নড়াচড়ার কারণে শিশুর কানে ব্যথা ও অস্বস্থি ‘হতে থাকবে। নিজেরা চেষ্টা করলে অনেক সময় কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যায় অথবা কানের ভেতরে ক্ষত হয়ে যায়। এমন সমস্যার ক্ষেত্রে হাতের কাছে পাতলা যেকোনো ধরনের তেল (অলিভ ওয়েল অথবা নারিকেল তেল) ধীরে ধীরে ফো’টায় ফো’টায় কানের মধ্যে দিন। বাড়িতে এর বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। এরপর যত দ্রুত সম্ভব, শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

আবার উদ্ভিজ্জ বস্তু ঢুকে গেলে কানে ফুলে যেতে পারে। ফলে কানের ব্যথা বাড়ে। সেই বস্তুটিকে বের করার সময়ও বেগ পেতে হয়। তাই এক্ষেত্রে একদ’ণ্ড সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে আনতে হবে। এর আগে অবশ্য নির্দিষ্ট কানে দুই-এক ফোঁটা গ্লিসারিন দেয়া দরকার। কানে গ্লিসারিন দিলে উদ্ভিজ্জ বস্তুটি আকারে ছোট হয়ে যাব’ে। কমবে ব্যথা।

আবার বেশ কিছু মানুষ কানে পানি ঢোকার সমস্যার অ’ভিযোগ করেন। তবে কানে ঢোকা পানি আপনা থেকেই বেরিয়ে আসা বা উবে যাওয়া দরকার। তাই বেশি চিন্তা নয়। কিছুক্ষণ অ’পেক্ষা করলেই সমস্যা মিটে যাব’ে। চাইলে কানে গরম সেক দিতে পারেন। তবে বারংবার কানে পানি ঢুকে যাওয়ার ঘটনা ঘটার অর্থ ‘হতে পারে কানের পর্দায় ছিদ্র রয়েছে। তাই বারবার এই ঘটনা ঘটলে একবার অন্তত চিকিত্সকের কাছে আসতে হবে।

ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন, বি’ষয়টা ঠিক কতটা অস্বস্তিকর। তবে ভাত, কলা, রুটির মতো খাদ্যবস্তু খেলে কা’টা নেমে যেতে পারে। সত্যি বলতে, কিছু ক্ষেত্রে এই প’দ্ধতি অবলম্বন করে কাঁটা নেমে যায়। তবে মুশকিল হল, এই প’দ্ধতির কারণে বেশিরভাগ সময়ই কাঁটা গলার আরো ভেতরে ঢুকে যায়। তখন সেই কাঁটা বের করে আনাও ততোধিক কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই প্রথমেই এসব ধারণা থেকে দূরে সরে আসুন। তবে শুধু মাছের কাঁটা নয়, মাংসের টুকরো, ধানের তুষ সহ আরো হাজারো জিনিস গলায় গেঁথে যেতে পারে। সাধারণত টনসিলে বা জিভের পেছনের দিকেই এই বস্তুগু’লি গেঁথে যায়। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে হাত দিয়ে বের করার চেষ্টা করা যেতে পারে। পানি পান করেও দেখা যেতে পারেন।

ঢুকে থাকা বস্তু না বেরিয়ে আসলে অবশ্যই চিকিত্সকের কাছে আসতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হল তা অনেক সময়ই পেনের ক্যাপ, খেলনার টুকরো গলায় আট’কে ফেলে। তাই অ’ভিভাবকদের দের না করে বাচ্চাকে নিয়ে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া দরকার। না হলে বিপদ বাড়তে পারে।

Check Also

লজ্জাবতী গাছের ঔষধি গুণাবলী জেনে অবাক হবেন!

লজ্জাবতী। আবার কেউ কেউ এক বলেন লাজুক লতা। পরিচয় বর্ষজীবি গুল্ম আগাছা বা ঔষধি গাছ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *